আর মাত্র একদিন পরেই শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট, ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালও তৈরি ছিল নিজের সব রূপ – বৈশিষ্ট্য নিয়ে। মুহূর্তের সন্ত্রাসী হামলায় পণ্ড হল সবকিছু । শুধু ক্রিকেট কেন পুরো ক্রাইস্টচার্চ শহরটাই যেন পরিণত হল মৃত্যুপুরীতে । অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বেছে নিল শুক্রবারের জুম্মার নামাজকেই। এমনিতেই মুসলিম সংখ্যালঘু অঞ্চল হিসেবে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদের সংখা বেশি নয় । সন্ত্রাসীরা ভাগ হয়ে একাধিক মসজিদে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। পুরো ক্রাইস্টচার্চকে সিল করে রেখেছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী । শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক বলে জানা গেছে । গুরুতর আহত আছে আরো অনেকে।

শেষ টেস্টের সংবাদ সম্মেলন শেষ করতে করতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ১০ মিনিটের মত দেরি হল; এবং এই ১০ টা মিনিটই বাঁচিয়ে দিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে । ইসলামবিদ্বেষী সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়াবহতা ইতিমধ্যে ভাইরাল ভিডিওতে অনেকেরই দেখা হয়ে গেছে । বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টিম বাস সবেমাত্র হ্যাগলি ওভালের সংবাদ সম্মেলন শেষ করে নিকতস্থ মসজিদে ক্রিকেটারদের জুম্মার সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে পৌঁছেছে, এই সময় স্থানীয় একজন গাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের মসজিদের দিকে যেতে নিষেধ করে ও সন্ত্রাসী হামলার কথা জানায় । এর মধ্যেই আশপাশ থেকে গুলির শব্দ ভেসে আসতে থাকে আর রাস্তায় গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় পুলিশ । আতঙ্কিত ক্রিকেটাররা মসজিদ কমপ্লেক্স আর ওভালের মাঝে আটকা পরে। বাংলাদেশে বাইরের কোন দল আসলে যে ধরণের নিরাপত্তা দেয়া হয় তার বিন্দুমাত্রও ছিলনা সেখানে। এমনকি টিম বাসে ছিলনা স্থানীয় কোন লিয়াজো কর্মকর্তা । এসময় নামাজ আদায় করতে যাওয়া ক্রিকেটাররা মসজিদ ও হ্যাগলি ওভালের মাঝখানে হ্যাগলি পার্ক দিয়ে কোনরকমে ওভালে ফিরে আসে ।

ক্রিকেটার ও স্টাফদের টুইটারের কল্যাণে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে যাওয়া খবরে সবাই শঙ্কিত ছিল সবার জন্য । শেষ পর্যন্ত কোন অঘটন ছাড়াই ফিরে আসতে সমর্থ হয় ক্রিকেটার ও তাদের সাথে যাওয়া স্টাফ দের । ইএসপিএন ক্রিকিনফোর বাংলাদেশ করেস্পন্ডেন্ট মোহাম্মদ ইসলাম জানান, তিনি প্রথমে তামিম ইকবালের আতঙ্কিত ফোন পান, এরপর তাদের সাথে কথা বলে ফিরে আসার কথা বলেন। এসময় টাইগারদের অনেকেই ইমোশনাল হয়ে পরেন । ক্রিকেটাররা ওভালে ফিরে আসার পর খোঁজ পরে লিটন দাশ ও নাঈম হাসানের । তারা এসময় টিম হোটেলেই ছিলেন ।

মুশফিকুর রহিমের টুইট

মুশফিকুর রহিমের টুইট

তামিম ইকবালের টুইট

তামিম ইকবালের টুইট

এদিকে নিহতদের মধ্যে একাধিক বাংলাদেশি আছে বলে জানা গেছে । স্থানীয় মুসলিম ও খেলা দেখতে যাওয়া বাংলাদেশিদের উপর পবিত্র জুম্মার নামাজ আদায়ের সময় এমন নির্বিচার গণহত্যা কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় । শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেট নয়, সমগ্র ক্রিকেটবিশ্ব ও মুসলিমদের জন্য এটি একটি কাল দিন হয়েই থাকল । বাংলাদেশ দল নিরাপদে টিম হোটেলে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সকলে।

সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ – নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ টেস্টটি হচ্ছেনা আর। স্পন্সর এএনজেড এর বরাত দিয়ে এটি নিশ্চিত করেছেন দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড । বাংলাদেশ দল যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চায় ।